বিশ্বকর্মা পুজো মানেই কারখানা, যানবাহন বা বিভিন্ন যন্ত্রপাতির আরাধনা। তবে জলপাইগুড়ির গরুমারা অভয়ারণ্য সংলগ্ন ময়নাগুড়ি ব্লকের রামসাইয়ে দেখা গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন এক ছবি। বিশ্বকর্মা পুজোর পবিত্র দিনে যন্ত্রপাতির পাশাপাশি নিষ্ঠার সঙ্গে পুজো করা হলো বন দফতরের জীবন্ত হাতিদের। এই আয়োজনের কেন্দ্রে ছিল গরুমারার দুই পোষ্য হাতি— ‘বীর’ এবং ‘কাবেরী’।
বন দফতরের বিশেষ উদ্যোগে প্রতি বছরের মতো এবারও ঐতিহ্য মেনে হাতিদের সামনে সাজিয়ে রাখা হয় পুজোর সামগ্রী ও উপাচার। নিয়ম মেনে ধূপ-ধুনো ও পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে পরিচালনা করা হয় আচার-অনুষ্ঠান। বিশ্বকর্মা পুজোয় গজরাজদের এই বিশেষ আরাধনা প্রত্যক্ষ করতে রামসাইয়ে উপচে পড়ে আশপাশের গ্রামের বাসিন্দা এবং দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের ভিড়।
রামসাই ও সংলগ্ন জঙ্গল ঘেরা এলাকায় দীর্ঘকাল ধরেই মানুষ ও হাতির সহাবস্থান। তবে বিভিন্ন সময় লোকালয়ে হাতির প্রবেশ কিংবা হাতির করিডোরে মানুষের আনাগোনার কারণে উভয় পক্ষের সংঘাতের খবরও সামনে আসে। সেই জটিল পরিস্থিতির আলোকেই বিশ্বকর্মা পুজোয় হাতি পুজোর মাধ্যমে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর মধ্যে সম্প্রীতি, প্রেম ও সহাবস্থানের শক্তিশালী বার্তা তুলে ধরা হয়।
বনকর্মীদের মতে, বন্যপ্রাণীদের প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও সচেতনতা বৃদ্ধি করাই এই উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য। এই ধরনের ঐতিহ্যবাহী পুজো ও সামাজিক মেলবন্ধন মানুষ-হাতি সংঘাত কমাতে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের বন্যপ্রাণী রক্ষায় উৎসাহিত করতে অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে।