রুদ্রনগরে সিপিআই(এম)-এর বিশাল জনসভা, ৭ দফা দাবিতে সরব মীনাক্ষী মুখার্জী ও সায়ন ব্যানার্জী•শক্তিপুর থানায় হাজিরা দিলেন হুমায়ুন কবীর •গ্রেপ্তার খড়গপুরের তৃনমূল নেতা দেবাশীষ চৌধুরী •জায়েন্ট স্ক্রীনে বিশ্বকাপ দেখানোর প্রস্তুতি •বালি বোঝাই ১৬টি গাড়ি আটক করলো রামপুরহাট থানার পুলিশ•
আমি বাজেটও জানতাম না!" পদ ছেড়েই মমতায় চরম বিস্ফোরক চন্দ্রিমা!
By Reporter Sabyasachi July 04, 2026
Share:
বিধানসভা নির্বাচনের ধাক্কা সামলানোর মাঝেই তৃণমূল কংগ্রেসে এবার বেনজির ধস। দলের রাজ্য সভানেত্রীর পদসহ সমস্ত সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দিলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। আর পদত্যাগের পরেই দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বঞ্চনা ও চরম অপমানের বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে সরব হলেন তিনি।
স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, রাজ্যের অর্থ প্রতিমন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও রাজ্য বাজেটের বিন্দুবিসর্গ তিনি আগে থেকে জানতেন না।
শনিবার দলের সর্বোচ্চ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি পাঠিয়ে সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দেন চন্দ্রিমা। এর ঠিক পরেই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। তিনি বলেন, দলের প্রতি শতভাগ আনুগত্য দেখানোর পুরস্কার হিসেবে তাঁকে কেবল বঞ্চনা আর অবমাননাই সহ্য করতে হয়েছে। বাজেট প্রসঙ্গে তাঁর বিস্ফোরক দাবি, "বাজেট নিয়ে আমার সঙ্গে কোনো আলোচনাই করা হয়নি। আপনারা সাধারণ মানুষ যখন জানতে পেরেছেন, তার ঠিক কিছুক্ষণ আগেই আমি বিষয়টি জানতে পারি। আমি তো একপ্রকার হাফপ্যান্ট মন্ত্রী (ডামি মন্ত্রী) ছিলাম!"
রাজ্যের অর্থ প্রতিমন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও খোদ বাজেট পেশের আগে কোনো পরামর্শ বা আলোচনা করা হয়নি তাঁর সঙ্গে। দলের জন্য আজীবন কাজ করলেও শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে কোনো গুরুত্ব বা সম্মান পাননি। নিজেকে ক্ষমতাহীন বা কেবল নামের খাতিরে 'ডামি মন্ত্রী' হিসেবে কাজ করতে হয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে দলের বিপর্যয়ের পর, গত জুন মাসের ৩ তারিখে সুব্রত বক্সীর জায়গায় চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি করা হয়েছিল। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র এক মাসের মাথাতেই এই পদত্যাগ এবং সরাসরি দলনেত্রীর বিরুদ্ধে এমন বিস্ফোরক মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে এক বিশাল ভূমিকম্প এনে দিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, চন্দ্রিমার এই মন্তব্য দলের ভেতরের একনায়কতন্ত্র ও চরম সমন্বয়হীনতাকেই সংবাদমাধ্যমের সামনে নগ্ন করে দিল।