১৫ বছর মন্ত্রী, বিধায়ক ছিলেন, তখন তো আমাকে কিছু বলেননি?' বিদ্রোহীদের চ্যালেঞ্জ মমতার
By Reporter Sabyasachi
July 05, 2026
সকালেই পদত্যাগ করেছেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। শনিবার বিকেলেই সোশ্যাল মিডিয়ায় এসে নব্য তৃণমূলকে ঝাঁঝাল আক্রমণ করলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 'বিদ্রোহীদের' নিশানা করে মমতা বলেন, 'আপনারা তো সরাসরি বিজেপি করছেন।''
তৃণমূলনেত্রী বলেন, ''বিজেপি করবেন, তৃণমূল বলবেন এটা তো হতে পারে না।
তৃণমূল কংগ্রেসের আদর্শ বিজেপি বিরোধী। মনে রাখবেন আমাদের একটা আদর্শ আছে, নীতি আছে। আপনারা যারা বৈইমানরা, গদ্দাররা, বিজেপির কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে তাদের কথামতো চলছেন, বিজেপি স্পনসর্ড যারা, তাদের আমি বলব, যদি সাহস থাকে, বুকের পাটা থাকে, যান গিয়ে বিজেপিতে যোগ দিন। আমাদের কোনও আপত্তি নেই।''
তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরকে কটাক্ষ করে মমতা বলেন, ''আপনারা এই চিহ্নে জিতে এসেছেন, আর আজকে বিদ্রোহী। কীসের বিদ্রোহী? নির্বাচনের আগে পর্যন্ত বিদ্রোহ ছিল না? ১৫ বছর আপনারাই এমপি, এমএলএ, মন্ত্রী ছিলেন, সবটাই পেয়েছেন, কই আমাকে তো কখনও কিছু বলেননি।''
মমতা বলেন, ''যারা তৃণমূল কংগ্রেসের চিহ্নে জিতেছেন, আমার সই করা চিহ্নে জিতেছেন, তারা আজ বলছেন 2023-এর পর থেকে আর কোনও অস্তিত্ব নেই। আমাদের পরের নির্বাচন হবে ২০২৭ সালে। যদি ২০২৩ সালেই পার্টির রেকগনিশন শেষ হয়ে যায়, তাহলে ২০২৬-এ আপনারা দলের চিহ্নে লড়ে জিতলেন কী করে? নির্বাচন কমিশন গ্রহণ করেছেন, তবেই না দলের প্রার্থী হয়েছেন? আজ জিতে গিয়ে, যেহেতু বিজেপি নানা ছলে বলে কৌশলে ভোট লুট করে নাম কেটে নানারকম অছিলায় একটা ভোট লুট করেছে, ২ মাসও ধৈর্য ধরতে পারলেন না। এত তাড়াতাড়ি দলের সঙ্গে বৈইমানি করে চলে গেলেন। বৈইমানিরও একটা সীমা থাকা উচিত।''
ফের বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট লুট নিয়ে সরব মমতা। তৃণমূলনেত্রীর দাবি, ''এমন সন্ত্রাস শুরু হয়েছে, যারা আমাদের সঙ্গে রয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে কোনও কেস নেই তাদের বিরুদ্ধে জোর করে বিভিন্ন কেস দিয়ে জোর করে লকআপে ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ঘরবাড়ি জালিয়ে দেওয়া হয়েছে।''
নাম না করেই চন্দ্রিমার পদত্যাগ প্রসঙ্গে মমতা বলেন, ''উনি অনেকদিন ধরেই আমাকে বলছিলেন পদত্যাগ করবেন। কারণ উনার ছেলে গিয়ে ইতিমধ্যে হাত মিলিয়েছেন। আমার তাতে কিছু বলার নেই। তাদের লাগেজ-ব্যাগেজ থাকতে পারে। আপনারা একজন কোথায় গেলেন না গেলেন, আমি পরোয়া করি না। আমি নেতা চাই না, আমি কর্মী চাই। আমি সাধারণ মানুষের ভালবাসা থেকে যেন বঞ্চিত না হই।''