রুদ্রনগরে সিপিআই(এম)-এর বিশাল জনসভা, ৭ দফা দাবিতে সরব মীনাক্ষী মুখার্জী ও সায়ন ব্যানার্জী•শক্তিপুর থানায় হাজিরা দিলেন হুমায়ুন কবীর •গ্রেপ্তার খড়গপুরের তৃনমূল নেতা দেবাশীষ চৌধুরী •জায়েন্ট স্ক্রীনে বিশ্বকাপ দেখানোর প্রস্তুতি •বালি বোঝাই ১৬টি গাড়ি আটক করলো রামপুরহাট থানার পুলিশ•
মমতাকে ক্ষমতাচ্যুত করে প্রথম চুল কাটলেন কৌস্তভ! ৩ বছর আগে প্রতিজ্ঞা নিয়ে এই রাস্তায় বসেই ন্যাড়া হয়েছিলেন
By Reporter Sabyasachi July 12, 2026
Share:
২০২৩ সালে তৃণমূল সরকারকে (TMC) উৎখাত করার প্রতিজ্ঞা নিয়ে মাথা ন্যাড়া করেছিলেন তৎকালীন কংগ্রেস নেতা কৌস্তভ বাগচী (Kaustav Bagchi)। এরপরের সময়কালে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় এবং রাজ্যের শাসক দল উভয়েই পাল্টেছে। ২০২৪ সালে পদ্ম শিবিরে যোগ দেন এই নেতা, আর গত মে মাসে মমতার সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে সরকার গড়েছে বিজেপি (BJP)।
কৌস্তভ এখন শাসক দলের একজন বিধায়কও। চুলও গজায় তাঁর মাথায়। একদিন যে রাস্তায় বসে মাথা ন্যাড়া করেছিলেন, প্রতিজ্ঞা পূরণের পর সেই রাস্তায় বসেই আবার চুল কাটলেন ব্যারাকপুরের বিধায়ক।
শনিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কৌস্তভ বাগচী (Kaustav Bagchi) বলেন, "২০২৩ সালের ৪ মার্চ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যাচারের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলে ব্যাংকশাল কোর্ট থেকে জামিন পেয়ে রাস্তায় বসেই চুল কামিয়েছিলাম। প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যতদিন না প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন মাথায় আমি চুল রাখব না। তারপর অনেক তির্যক মন্তব্য, অনেক হাসি-ঠাট্টা হয়েছে আমাকে নিয়ে, তবুও আমার প্রতিজ্ঞা থেকে সরিনি।"
"অবশেষে ৪ মে এই রাজ্যে বিজেপির নেতৃত্বাধীন সরকার এসেছে। এখন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর নাম শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari), বর্তমানে রাজ্যের সদ্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আমি আমার কথা রেখেছি।" বলেন বিজেপি বিধায়ক। একইসঙ্গে যোগ করেন, "আমার প্রথম যখন রাস্তায় বসে ন্যাড়া হয়েছিলাম, প্রথম চুল কাটাটাও রাস্তায় বসে হোক।"
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন কৌস্তভ বাগচী। এরপর ব্যাংকশাল কোর্টে তাঁর জামিন হয়েছিল। সেইসময়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মাথা ন্যাড়া করে ফেলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, "যতক্ষণ না-পর্যন্ত এই স্বৈরতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার পতন হচ্ছে । মাথায় চুল রাখব না।"
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কংগ্রেসের দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন কৌস্তভ বাগচী। আর পরদিনই সব জল্পনা সত্যি করে তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে বিজেপিতে যোগদান করেন।
কংগ্রেস ছাড়ার সময় রাজ্য নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন কৌস্তভ। তিনি এও দাবি করেছিলেন, তৃণমূলকে ক্ষমতা থেকে সরাতে একমাত্র বিজেপিই পারবে।
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে ব্যারাকপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে লড়াই করেছেন কৌস্তভ। প্রাক্তন তারকা বিধায়ক রাজ চক্রবর্তীকে হারিয়ে বিপুল ভোটে জয় হয়েছে তাঁর। বাংলায় প্রথমবার ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। এরপরই মাথায় চুল রাখতেও শুরু করেছেন কৌস্তভ বাগচী।
২০২৩ সালে মমতার সরকারকে শাসকের গদি থেকে সরানোর প্রতিজ্ঞা নেওয়া, ২০২৬ সালে সেই প্রতিজ্ঞা পূর্ণ এবং সেই রাস্তায় বসেই প্রথম চুল কাটা, এই তিন বছরে যেন একটা বৃত্ত সম্পূর্ণ করলেন বিধায়ক।