কল সেন্টারের আড়ালে দেশজুড়ে লোন প্রতারণা! বর্ধমানে চক্রের পর্দাফাঁস, মূল চক্রী সহ গ্রেফতার ৭•বিশ্বকর্মা পুজোর বাহানায় মিলল না সরকারি অ্যাম্বুলেন্স, ভাড়ার গাড়িতেই প্রসব! পানাগড়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রবল বিক্ষোভ•" বিশ্বকর্মা পুজোতে বাংলায় নতুন শিল্পের জোয়ার শুরু হলো "- শুভেন্দু •শ্রীরামপুরে ২৬ সেপ্টেম্বর মমতার সভায় অনুমতি হাই কোর্টের, ১ হাজারের বেশি জমায়েত নয়•নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনের আগে নতুন মোড়, নবান্নে শুভেন্দুর সঙ্গে সাক্ষাৎ মমতার প্রার্থীর•
ভাদ্র মাসের আগমন মানেই একসময় রাঢ় বাংলার ঘরে ঘরে ভেসে উঠত ভাদু গানের চেনা মেঠো সুর। আধুনিকতার ছোঁয়া আর রঙিন ডিজিটাল দুনিয়ার ভিড়ে সেই চিরাচরিত উৎসব কিছুটা ম্লান হলেও, বাঁকুড়ার মাটি আজও আকড়ে ধরে রেখেছে এই প্রাচীন লোক ঐতিহ্যকে।
পৌরাণিক কথা ও সামাজিক চেতনা
কাশিপুরের রাজকন্যা ভদ্রেশ্বরী (ভাদু)-র স্মৃতিকে কেন্দ্র করে এই লোকগানের সূচনা হলেও, কেবল পুজো-অর্চনায় তা সীমাবদ্ধ থাকেনি। গ্রামীণ জীবনের সুখ-দুঃখ, পৌরাণিক গল্পগাথা, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং সামাজিক সচেতনতার নানা বার্তা যুগে যুগে উঠে এসেছে ভাদু গানের কথায় ও সুরে। গ্রামের নারীদের মেঠো কোরাস আর যৌথ অংশগ্রহণই এই গানকে করে তুলেছিল রাঢ় বাংলার গ্রামীন জীবনদর্শনের মানস মুকুট।
ঐতিহ্য বাঁচানোর নিরলস তাগিদ
বর্তমানে মোবাইল আর প্রযুক্তির দাপটে নতুন প্রজন্মের কাছে ভাদু গানের আসর অনেকটাই অচেনা। তবে এই শেকড়ের সংস্কৃতিকে বিলুপ্ত হতে দিতে নারাজ বেশ কিছু লোকসংস্কৃতি গবেষক ও স্থানীয় প্রবীণ শিল্পীরা। ঐতিহ্য হারানোর আশঙ্কার মাঝেই তারা প্রতিজ্ঞা নিয়েছেন এই চেনা সুরকে বাঁচিয়ে রাখার। বাঁকুড়ার অলিগলিতে এখনও তাদের কণ্ঠে উচ্চারিত হয় ভাদু বন্দনা।
প্রযুক্তি ও সময়ের পরিবর্তনের সাথে উদযাপনের ব্যাপ্তি হয়তো কমেছে, কিন্তু বাঁকুড়া ও রাঢ় বাংলার সাংস্কৃতিক আত্মায় ভাদু গানের মেঠো সুর আজও অমলিন।