বিশ্বকর্মা পুজোয় জলদাপাড়ায় কুনকি হাতিদের বিশেষ পুজো, আখ-কলা পেয়ে খুশি 'মমতাজ-রায়ানরা'•বিশ্বকর্মা পুজোয় রামসাইতে জীবন্ত হাতি পুজো! বীর ও কাবেরীকে ঘিরে ভিড় পর্যটকদের, বার্তা সহাবস্থানের•ভোটার কার্ডের নথি যাচাইয়ের নামে ঘরে ঢুকে যুবতীকে শ্লীলতাহানি! আউশগ্রামে ধৃত শিক্ষক তথা বিএলও•কল সেন্টারের আড়ালে দেশজুড়ে লোন প্রতারণা! বর্ধমানে চক্রের পর্দাফাঁস, মূল চক্রী সহ গ্রেফতার ৭•বিশ্বকর্মা পুজোর বাহানায় মিলল না সরকারি অ্যাম্বুলেন্স, ভাড়ার গাড়িতেই প্রসব! পানাগড়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রবল বিক্ষোভ•
বিশ্বকর্মা পুজোর বাহানায় মিলল না সরকারি অ্যাম্বুলেন্স, ভাড়ার গাড়িতেই প্রসব! পানাগড়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রবল বিক্ষোভ
By Reporter Sabyasachi September 19, 2026
Share:
নিজস্ব সংবাদদাতা, পানাগড়: বিশ্বকর্মা পুজোর অজুহাতে মিলল না নিখরচায় সরকারি অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা। শেষ পর্যন্ত গ্রামবাসীদের সহায়তায় ভাড়া করা গাড়িতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়ার পথেই সন্তান প্রসব করলেন এক গর্ভবতী মহিলা। সরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালকদের চরম গাফিলতি ও টাকা দাবি করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সকালে তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভ ছড়াল পশ্চিম বর্ধমান জেলার কাঁকসার পানাগড় উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, কাঁকসার তিলক চন্দ্রপুরের বাসিন্দা আকাশ বাগদীর স্ত্রী পূজা বাগদীর শুক্রবার মধ্যরাতে হঠাৎই তীব্র প্রসব বেদনা শুরু হয়। তড়িঘড়ি নিখরচায় সরকারি অ্যাম্বুলেন্স পেতে পানাগড় স্বাস্থ্য কেন্দ্রের অ্যাম্বুলেন্স চালকদের নম্বরে বারবার ফোন করেন পরিবারের সদস্যরা। অভিযোগ, বারবার ফোন করা সত্ত্বেও অ্যাম্বুলেন্স পাঠাতে অস্বীকার করা হয়। উল্টে চালকদের তরফে দাবি করা হয়, বিশ্বকর্মা পুজো উপলক্ষে গাড়ি ধুয়ে পরিষ্কার করে রাখা হয়েছে। এই অবস্থায় গাড়ি নিয়ে যেতে হলে নগদ এক হাজার টাকা দিতে হবে।
আকাশ বাগদী অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে চালকদের দাবি করা টাকা মেটানো সম্ভব ছিল না। অন্যদিকে প্রসূতির যন্ত্রণা ক্রমেই বাড়তে থাকায় শেষ পর্যন্ত গ্রামের মানুষদের সহযোগিতায় একটি সাধারণ গাড়ি ভাড়া করা হয়। কিন্তু পানাগড় স্বাস্থ্য কেন্দ্রে পৌঁছানোর আগেই পথিমধ্যে সেই ভাড়ার গাড়ির ভেতরেই জন্ম নেয় সন্তান।
এই মর্মান্তিক ও মর্মান্তিক অভিজ্ঞতার পর শুক্রবার সকালে পানাগড় উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সামনে ক্ষোভে ফেটে পড়েন আকাশের পরিবার ও গ্রামবাসী। তাঁদের বক্তব্য, দরিদ্র মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানোর জন্যই তো এই নিখরচায় সরকারি পরিষেবা। কিন্তু উৎসবের দোহাই দিয়ে এবং বেআইনিভাবে টাকা চেয়ে যদি সঠিক সময়ে পরিষেবা না পাওয়া যায়, তবে এই ব্যবস্থার লাভ কী?
ঘটনাকে ঘিরে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র চত্বরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ালেও কর্তৃপক্ষের তরফে কোনো স্পষ্ট বক্তব্য মেলেনি। স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কর্মীদের এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তাঁরা মুখ খুলতে চাননি। পাশাপাশি, অত ভোরে ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিককে (BMOH) তাঁর দপ্তরে পাওয়া যায়নি বলে জানা গিয়েছে।