Sat, Sep 19, 2026
 Network
Breaking News
বিশ্বকর্মা পুজোয় জলদাপাড়ায় কুনকি হাতিদের বিশেষ পুজো, আখ-কলা পেয়ে খুশি 'মমতাজ-রায়ানরা' বিশ্বকর্মা পুজোয় রামসাইতে জীবন্ত হাতি পুজো! বীর ও কাবেরীকে ঘিরে ভিড় পর্যটকদের, বার্তা সহাবস্থানের ভোটার কার্ডের নথি যাচাইয়ের নামে ঘরে ঢুকে যুবতীকে শ্লীলতাহানি! আউশগ্রামে ধৃত শিক্ষক তথা বিএলও কল সেন্টারের আড়ালে দেশজুড়ে লোন প্রতারণা! বর্ধমানে চক্রের পর্দাফাঁস, মূল চক্রী সহ গ্রেফতার ৭ বিশ্বকর্মা পুজোর বাহানায় মিলল না সরকারি অ্যাম্বুলেন্স, ভাড়ার গাড়িতেই প্রসব! পানাগড়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রবল বিক্ষোভ

কল সেন্টারের আড়ালে দেশজুড়ে লোন প্রতারণা! বর্ধমানে চক্রের পর্দাফাঁস, মূল চক্রী সহ গ্রেফতার ৭

Reporter Sabyasachi By Reporter Sabyasachi September 19, 2026
কল সেন্টারের আড়ালে দেশজুড়ে লোন প্রতারণা! বর্ধমানে চক্রের পর্দাফাঁস, মূল চক্রী সহ গ্রেফতার ৭
নিজস্ব সংবাদদাতা, বর্ধমান: কল সেন্টারের আড়ালে জাল বিছিয়ে দেশজুড়ে আর্থিক প্রতারণার বড়সড় চক্রের পর্দাফাঁস করল বর্ধমান থানার পুলিশ। শহরের গুডশেড রোড এলাকায় একটি ভুয়ো সংস্থায় অভিযান চালিয়ে চক্রের মূল পাণ্ডা তথা কল সেন্টারের কর্ণধার অরিৎ কুমার দাস সহ মোট ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে ৬ জন মহিলা কর্মী রয়েছেন।
যেভাবে মিলল সূত্র
পুলিশ সূত্রে খবর, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ‘ইন্ডিয়ান সাইবার ক্রাইম কো-অর্ডিনেশন সেন্টার’ (I4C) এবং পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের সাইবার উইংসের পোর্টাল থেকে বর্ধমানের ৫৬ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তির অস্বাভাবিক অর্থ লেনদেনের তথ্য মেলে। এর পাশাপাশি জানা যায়, বর্ধমানের একটি লোন প্রদানকারী সংস্থা প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ১৫টি করে নতুন সিম কার্ড কিনছে। এই দুই সূত্র মিলিয়ে তদন্তে নেমে পুলিশ গুডশেড রোড এলাকার ‘এক্সা বিপিও’ (Exa BPO) নামের একটি অফিসে আচমকা অভিযান চালায়।
বিপিও-র আড়ালে ভুয়ো সংস্থা
অভিযানকালে পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে একাধিক সিম কার্ড উদ্ধার করে। তদন্তে জানা যায়, ‘আইশি ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন’ নামের একটি সংস্থার নামে এই সিম কার্ডগুলি তোলা হয়েছিল। তবে সংস্থার কর্ণধার অরিৎ কুমার দাস এই ফাউন্ডেশন কিংবা ‘এক্সা বিপিও’-র কোনো বৈধ্য রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট দেখাতে পারেননি। জালিয়াতি স্পষ্ট হতেই পুলিশ অরিৎ কুমার দাস সহ ৬ মহিলা কর্মী—মানাখ্যা চক্রবর্তী, মৌমিতা হাজরা, সীমা চ্যাটার্জি, মন্দিরা তা, পলি কেওরা ও দোয়েল নন্দীকে গ্রেফতার করে।
প্রতারণার কৌশল
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, কল সেন্টারটি থেকে দেশজুড়ে ঋণ, চাকরি ও ক্রেডিট কার্ড দেওয়ার নামে পাতা হতো ফাঁদ।
* ধাপ ১: সংস্থার মহিলা কর্মীরা ফোন করে গ্রাহকদের কম সুদে ঋণ বা চাকরির লোভ দেখাতেন।
* ধাপ ২: বাকপটুতায় গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করে ব্যক্তিগত ও ব্যাংক সংক্রান্ত গোপন তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হতো।
* ধাপ ৩: এরপর গ্রাহকদের মোবাইলে কিউআর (QR) কোড পাঠিয়ে টাকা হাতিয়ে তা মূল অ্যাকাউন্ট বা ডিজিটাল ওয়ালেটে নিয়ে নেওয়া হতো।
* ধাপ ৪: শেষ ধাপে এটিএম (ATM)-এর মাধ্যমে দ্রুত সেই টাকা ক্যাশ করিয়ে নেওয়া হতো।
উদ্ধার হওয়া সামগ্রী ও আইনি পদক্ষেপ
অভিযান চালিয়ে পুলিশ এই কল সেন্টার থেকে:
* ৫,০০০-এর বেশি মোবাইল নম্বরের ডেটাবেস
* ১২টি সিম কার্ড
* ১টি ল্যাপটপ ও ৪টি ডেস্কটপ
* ৮টি মোবাইল ফোন এবং একাধিক নথি বাজেয়াপ্ত করেছে।
ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র ৩১৮(২), ৩১৮(৩), ৩১৮(৪), ৩১৯(২), ৩৩৬(২), ৩৩৬(৩) এবং ৬১(২) ধারায় মামলা রুজু করে বর্ধমান আদালতে পেশ করা হয়েছে। এই জালিয়াতির সঙ্গে আর কোনো আন্তঃরাজ্য চক্র জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।