পিংলার মালিগ্রামে বিজেপির বাইক মিছিল, তুঙ্গে রাজনৈতিক পারদ•পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা কাষ্ঠ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির বন মহোৎসব ও চারাগাছ বিতরন•রুদ্রনগরে সিপিআই(এম)-এর বিশাল জনসভা, ৭ দফা দাবিতে সরব মীনাক্ষী মুখার্জী ও সায়ন ব্যানার্জী•শক্তিপুর থানায় হাজিরা দিলেন হুমায়ুন কবীর •গ্রেপ্তার খড়গপুরের তৃনমূল নেতা দেবাশীষ চৌধুরী •
বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উত্তেজনা
By Reporter Sabyasachi July 19, 2026
Share:
বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিছনের গেট ঘিরে ও পুলিশ কে ঘিরে উত্তেজনা পুলিশকে মারধর এবং বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী আহত ও মহিলা পুলিশ কর্মী তাদেরকে বাঁকুড়া সম্মিলন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালের বেশ কিছু ক্যামেরা এবং শুরু করে উত্তেজিত জনতা
আরজি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ঘটনার পর রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়। সেই সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিছনের দিকের একাধিক প্রবেশপথ বন্ধ করে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ রুখতে এবং হাসপাতালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তবে গতকাল এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ, প্রসব যন্ত্রণায় কাতর এক গর্ভবতী মহিলা হাসপাতালের পিছনের দিক দিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় হাসপাতালের বাইরে রাস্তার উপরই সন্তানের জন্ম দেন। স্থানীয়দের দাবি, সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছানো সম্ভব না হওয়ায় নবজাতকের মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকার বাসিন্দারা। দীর্ঘক্ষণ পথ অবরোধ করে তারা বিক্ষোভ দেখান এবং হাসপাতালের পিছনের রাস্তা সাধারণ মানুষের যাতায়াতের জন্য খুলে দেওয়ার দাবি তোলেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, অবরোধ তুলতে গিয়ে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এই ঘটনায় কয়েকজন পুলিশ কর্মী ও মহিলা পুলিশ কর্মী আহত হন। পুলিশ ইতিমধ্যেই ১৯ জনকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের আজ বাঁকুড়া জেলা আদালতে তোলা হবে।
অন্যদিকে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, নিরাপত্তার স্বার্থে কোনওরকম ঝুঁকি নেওয়া যাবে না। অতীতে হাসপাতাল চত্বরে বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশের অভিযোগ উঠেছিল। তাই বর্তমানে হাসপাতালের জন্য নির্দিষ্ট দুটি প্রধান প্রবেশদ্বারই ব্যবহার করার নির্দেশ রয়েছে।
এদিকে করগাহিড় ও সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, বহু বছর ধরে হাসপাতালের পিছনের রাস্তা তাদের নিয়মিত যাতায়াতের পথ। সেটি বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে অসুস্থ ও জরুরি পরিষেবার প্রয়োজন থাকা মানুষ সমস্যায় পড়ছেন।
এই ঘটনাকে ঘিরে এখন মূল প্রশ্ন—হাসপাতালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জরুরি যাতায়াতের সুবিধা কীভাবে বজায় রাখা হবে? নিরাপত্তা ও জনস্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন প্রশাসনের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।